bangladesh
ads

বাঘের গর্জন শুনলো অস্ট্রেলিয়া

[ ctgreportbd | on August 28, 2017]

সিটিজিরিপোর্ট ২৪.কম ।। বাংলাদেশের বোলিং তোপের মুখে অস্ট্রেলিয়া যে ব্যাটিং করলো তাতে এখন বলাই যায়, প্রথম দিনটাও বাংলাদেশের ছিলো। বাংলাদেশ ২৬০ রানে অলআউট হওয়ার পর ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও শেষ বিকেলে মাত্র ১৪ রানের মধ্যে অজিদের তিন উইকেট তুলে নিয়ে টপ অর্ডারের বাজে ব্যাটিংয়ের কথা ভুলিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

বল হাতে দ্বিতীয় দিনের শুরুটাও (সোমবার) হলো ঠিক আগের দিনের শেষটা থেকে। ইনিংস মেরামতের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করার চেষ্টায় থাকা অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মিরাজের শিকার। আর থামেনি অজিদের উইকেট পতন। সাকিব-মিরাজের বোলিংয়ের মুখে অসহায় আত্মসমর্পণ সফরকারিদের। তাদের প্রথম ইনিংস শেষ মাত্র ২১৭ রানেই। প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশের লিড ৪৩ রান।

স্বস্তিই বলতে হবে। সেই স্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটাও হলো সাবলীল। কিন্তু শেষ বিকেলে খেই হারালেন সৌম্য সরকার। আগের ইনিংসে ৮ রান করা বাঁ-হাতি এই ওপেনার এদিন ১৫ রান করেই থামলেন। বাধ্য হয়ে নাইট ওয়াচম্যান তাইজুলকে নিয়ে দিনের বাকি ১১ বল খেলতে হলো ৩০ রানে অপরাজিত থাকা তামিম ইকবালকে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে এক উইকেটে ৪৫ রান। লিড এসেছে ৮৮ রানের।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলা হচ্ছিলো, দ্বিতীয় দিন শেষ হওয়ার আগেই সেটার দেখা মিলে গেছে। ঠিক সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বললেও ভুল হবে। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার থেকে শুরু হওয়া প্রথম টেস্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশই ছড়ি ঘুরিয়ে যাচ্ছে। ব্যাটে-বলে সবখানেই বাংলাদেশের রাজত্ব। ২৬০ রান করেও যখন ৪৩ রানের লিড মেলে, তখন বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখাই যায়।

অজিদের স্পিন দুর্বলতার কথা আগে থেকেই জানা ছিলো। বিশেষ করে উপমহাদেশের উইকেটে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের স্পিনভীতি তাদের ভালো ব্যাটিং করার সম্ভাবনার আগে বাধার দেয়াল তুলে দাঁড়িয়ে থাকে সব সময়। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু এবার যেন একটু বেশিই দিশেহারা অজিরা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের নাকানি চোবানিই খাইয়ে ছাড়লেন বাংলাদেশের স্পিনাররা।

ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের প্রতাপ পরিস্কার। বিশেষ করে বোলিংয়ে, নির্দিষ্ট করে বললে স্পিনে। একটি রান আউট, বাকি নয় উইকেটের সবকটিই স্পিনারদের ঝুলিতে। আরো নির্দিষ্ট করে বললে আসবে দুটি নাম, সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। সাকিবের পাঁচ এবং মিরাজের তিন। বাংলাদেশের এই দুই স্পিনারের বিপক্ষে অজিদের কোনো ব্যাটসম্যানই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। বাকি উইকেটটি নিয়েছেন আরেক স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের স্পিনারদের রাজত্বের চিত্রও স্কোরকার্ডে স্পষ্ট। অস্ট্রেলিয়ার একজন ব্যাটসম্যানও হাফ সেঞ্চুরি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেছেন বাঁ-হাতি ওপেনার ম্যাট রেনশ। সাকিব-মিরাজ বাধায় ২১ বছর বয়সী তরুণ এই ব্যাটসম্যানের পথেও হাঁটতে পারেননি ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথের মতো তারকা ব্যাটসম্যানরা। পিটার হ্যান্ডসকম্ব, ম্যাথু ওয়েড, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরাও পারেননি দলে হয়ে ব্যাট চালাতে।

আগেরদিনই সাজঘরে ফিরেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার, উসমান খাজা ও নাইট ওয়াচম্যান নাথান লায়ন। একটি করে উইকেট নিযেছিলেন সাকিব ও মিরাজ। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই স্মিথকে ফেরান মিরাজ। ম্যাট রেনশ ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব চেষ্টা করেও বিশেষ কিছু করতে পারেনি। ৬৯ রানের এই জুটি ভেঙেছেন তাইজুল। ৩৩ রান করা হ্যান্ডসকম্বকে ফেরান বাংলাদেশের বাঁ-হাতি এই স্পিনার। কিছুক্ষণ পরই সর্বোচ্চ ৪৫ রান করা রেনশকে সাজঘর চেনান সাকিব। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২৩ রান করলেও ম্যাথু ওয়েডকে উইকেটে টিকতে দেননি মিরাজ।

তবে ভুগিয়েছেন প্যাট কামিন্স ও অ্যাস্টন অ্যাগার। ৪৯ রানের জুটি গড়ে তোলেন এ দু’জন। ২৫ রান করা কামিন্সকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন সাকিব। অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেট জশ হ্যাজলউডকে ফিরিয়ে ইতিহাসের চতুর্থ বোলার হিসেবে টেস্ট খেলুড়ে প্রতিটি দেশের বিপক্ষে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন অ্যাস্টন অ্যাগার।

ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান তাদের ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছেন। মাইলফলকের ম্যাচে ব্যাট হাতে দলকে পথ দেখিয়েছেন এই দুই ত্রাণকর্তাই। দু’জনই হাফ সেঞ্চুরি (তামিম ৭১ ও সাকিব ৮৪) করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখেয়ে নিয়েছেন। তাদের ব্যাটে প্রথম ইনিংসে ২৬০ রান তোলা বাংলাদেশ বল হাতে থাকল দাপুটে ভূমিকায়।

বাংলাদেশ যে এখন পরিণত দল সেটা মানতে দ্বিধা দেখাননি অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তবে দূর থেকেই এত সেটা দেখেছেন তারা। এবার তারা বুঝতে পারছেন ঘরের মাঠের বাংলাদেশ আসলে কতোটা ভয়ঙ্কর।

Comments are closed.