bangladesh
ads

[ ctgreportbd | on August 10, 2017]

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কীর্তিমান এ বঙ্গসন্তানের প্রধান অবদান মূলত শিক্ষা ও সমাজসংস্কারে। সাহিত্যিক হিসেবেও তার দক্ষতা অনস্বীকার্য। নিজ আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠা প্রথিতযশা ব্যক্তি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ জন্মগ্রহণ করেছিলেন কলকাতায়, ১৯৩৯ সালে। কিন্তু আজ কেন তাকে বিশেষভাবে তাঁকে নিয়ে লিখছি? আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ মূলত বাংলাদেশিদের প্রাণের সঙ্গেই মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকেন সর্বদা। তবুও আজ তাঁকে লিখছি কেন না- আজ ২৫ জুলাই। এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন বরেণ্য সাহিত্যিক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারকের পাশাপাশি তার সাহিত্যিক পরিচয়টিকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করলাম। কেন না, তিনি ছিলেন ষাটের দশকের প্রতিশ্রুতিশীল একজন সাহিত্যিক। জানি না কী কারণে পরবর্তীতে সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর প্রভাবের স্ফুরন স্তিমিত হয়ে পড়েছিল, কিন্তু আত্মজীবনীসহ আরও কিছু গ্রন্থ লিখে নিজের লেখক সত্ত্বাকে এখনও শানিত করে রেখেছেন আপন চেষ্টায়। ওহ, আরেকটি বিষয় না বললেই নয়। তিনি একজন সুবক্তাও বটে। মূলত আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এর পায়ের পাতা সকল অঙ্গনেই পাতা। আর তাই লেখার শুরুতেই বলে নিয়েছি যে তিনি হচ্ছেন- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন ব্যক্তি, একটি আলো, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার সংস্কারে তিনি একটি উপযোগী অগ্নি শিখা। সেই শিখার আলোতে আলোকিত হচ্ছে বাংলাদেশ, আলোর দিশা অনুসরণ করে সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান প্রজন্ম।

যদি ১৯৭০ সালের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যাবে- আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তৎকালীন বেশ জনপ্রিয় একজন টিভি উপস্থাপক ছিলেন। ভাবছেন এখানেই শেষ? না, তাঁর কর্মময় জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টিই এখনও বলা হয়নি। সেটি হচ্ছে ‘বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র’। এ কেন্দ্রটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯৭৮ সালে। তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠতম কীর্তি এই বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রটি বিগত ৩০ বছর ধরে কাজ করছে আলোকিত মানুষ তৈরির কারখানা হিসেবে। সেই কারখানার একমাত্র রসদ বই। বর্তমানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের রয়েছে মোট ৫০০টি শাখা। দেশের মোট ৫৪ টির মতো জেলায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কর্মকাণ্ড বিস্তৃত রয়েছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বহু স্বেচ্ছাসেবী কর্মী। ১৯৯৮ সাল থেকে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম আরম্ভ করে কেন্দ্রটি।

যা হোক, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও, তাঁর পৈত্রিক ভিটা কিন্তু এপারেই। মানে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানার অন্তর্গত কামারগাতি গ্রামে। যার ঔরসে আমরা এ গুণী ব্যক্তিকে পেয়েছি আমাদের মাঝে, তাঁর নাম আযীমউদ্দিন আহমদ। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এর বাবা আযীমউদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। শিক্ষকতায় তাঁর বাবার অসামান্য অবদানই তাঁকে শিক্ষকতা পেশায়র প্রতি আকৃষ্ট করে তুলেছিল। ১৯৫৫ সালে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পড়াশোনা করতেন পাবনা জেলা স্কুলে। উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার হন বাগেরহাটের প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ থেকে। অতঃপর প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিষয়ে করেন স্নাতক। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং একই বিষয়ে টপকে যান স্নাতকত্তর। শিক্ষক হিসেবে তাঁর অবদান অসামান্য। অধ্যাপনায় তাঁর খ্যাতি কিংবদন্তীতুল্য। স্নাতকত্তরের পরপর চলে আসেন শিক্ষকতা পেশায়। সাল ছিল ১৯৬১। শুরু করেছিলেন মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে। এরপর- সিলেট মহিলা কলেজ, রাজশাহী কলেজ, ঢাকার বর্তমান সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা কলেজে ছড়িয়ে দিয়েছেন তারা সারাজীবনে অর্জিত শিক্ষার দীপ্তি।

লেখালেখির কথা বলতে গেলে তরুণ বয়স থেকেই কবিতা ও কল্পকাহিনী লেখায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ষাটের দশকের সাহিত্য আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছিলেন। কবিতা ও কল্প কাহিনী ছাড়াও তিনি লিখেছেন অনেক উপন্যাস ও প্রবন্ধ। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৫ সালে তিনি অর্জন করেন একুশে পদক। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০০৪ সালে তিনি রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার লাভ করেন এবং ২০১২ সালে প্রবন্ধে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। সত্যিই, তিনি যেন বাংলাদেশে জন্মে বাংলাদেশিদের জন্য বয়ে এনেছেন আলোকবর্তিকা আজ তাঁর জন্মদিন। ‘প্রিয়.কম’ এর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি রইল সশ্রদ্ধ শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *