bangladesh
ads

ঘুরে আসুন সিরাজগঞ্জের ইকোপার্ক

[ ctgreportbd | on August 10, 2017]

(সিটিজিরিপোর্ট২৪.কম) 

সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর কোল ঘেঁষে প্রায় ৬০০ একর জায়গার ওপরে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক-নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক।

পার্কটি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব খান এম ইব্রাহীম হেসেন ২০০৮ সালের ৯ মার্চ উদ্বোধন করেন।

সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর কোল ঘেষে গড়ে উঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক এখন জেলার বিনোদন প্রেমীদের একটি প্রধান বিনোদন কেন্দ্র। বিভিন্ন প্রকার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমারোহে গড়ে তোলা হয়েছে পার্কটি। পার্কের প্রবেশ পথ ধরে একেবারে শেষ প্রান্তে যমুনা নদীর পাড়ে সেতুর সীমানার কাছে গিয়ে ছবি তুলতে ভোলেন না পর্যটকরা। বর্ষাকালে যমুনা নদীর পানি পার্কের সীমানার প্রায় কাছাকাছি চলে আসে। যা পর্যটকদের কাছে খুবই উপভোগ্য হয়। বৃষ্টিভেজা সবুজ গাছপালা আর পার্কের বিভিন্ন পাখির ডাক দারুণ উপভোগ্য লাগে। নির্দিষ্ট অংকের টিকেট কেটে পার্কে প্রবেশ করতে হয়। প্রাইভেট কার ও মোটরবাইক নিয়েও পার্কে প্রবেশের সুবিধা রয়েছে, তবে তার জন্য আলাদা টিকেট করতে হয়।

সাধারণ দিনসহ বিভিন্ন ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়ানোর জন্য এই ইকোপার্কটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যারা বেশি সময় নিয়ে পার্কে আসেন, তারা পার্কের প্রবেশ পথের বাম দিকের পথ দিয়ে প্রবেশ করে পার্কের গহীণ অংশ ঘুরে দেখে থাকেন। ভাগ্য ভালো থাকলে উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা কিছু পশু-পাখির দেখাও মিলতে পারে।

পার্কের ভেতর একসময় হরিণ থাকলেও এখন বানর, বেজি, শিয়াল, খরগোশ আর কিছু বুনো সাপ ছাড়া আর কিছুই নেই পার্কে। বিভিন্ন ফল ও ফুলের মৌসুমে গাছে গাছে ধরে থাকা ফল ও ফুল মুগ্ধ করবে ভ্রমণ পিপাসুদের। পার্কের খুব কাছ দিয়ে চলে গেছে রেললাইন। যা দেখতে অনেকটা মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া উদ্যানের মতো।

যমুনা ইকোপার্ক

বঙ্গবন্ধু সেতু ইকোপার্ক। ছবি: সংগৃহীত

যমুনার পারে সবুজে ঘেরা এই ইকো পার্কটিতে সৌন্দর্য থাকলেও রয়েছে নানান অব্যবস্থাপনা। এই ইকোপার্কটি যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়ানোর জন্য ভ্রমণ পিপাসীদের কাছে হয়ে উঠতে পারে অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ভবিষ্যতে পর্যটন কেন্দ্র হবার সম্ভাবনা রয়েছে এটি। পার্কটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি সহ আরও কিছু অবকাঠামো তৈরি করা হলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি এটি হতে পারে দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

ঢাকা থেকে পার্কে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের কয়েকজন বলেন, পয় নিষ্কাশনের অভাব, নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই, হরিণ, বানর ও খরগোশ ছাড়া দেখার মতো আর কিছুই নেই বলে অভিযোগ করেন।

বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে শিক্ষা ট্যুরে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, চিড়িয়াখানার মতো আরও বেশি করে বন্য প্রাণি রাখলে আরও সুন্দর হবে। এ ছাড়া ইকো পার্কে বেড়াতে আসা শিশুদের জন্য কোন বিনোদনের ব্যবস্থা নেই, নেই কোনো ক্যান্টিন।

অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, যাতায়াতের সমস্যার কথাগুলো সমাধানের ব্যাপারে এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যেকোনো বাসে বঙ্গবন্ধু-যমুনা সেতু পেরিয়েই ইকোপার্কের অবস্থান। আর উত্তরবঙ্গের যেকোনো জেলা থেকে এলে সিরাজগঞ্জ রোড পেরিয়ে কড্ডার মোড়ের পরেই এই ইকোপার্ক। ট্রেনে এলে যমুনা সেতু পশ্চিম স্টেশনে নামতে হবে। পুরো ইকোপার্ক ঘুরতে ২/৩ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *